ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : Jan 17, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী কাঠামো ব্যবহার করে ‘দানবে’ পরিণত হয়েছেন

শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী কাঠামো ব্যবহার করে দানবে পরিণত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, এই স্বৈরাচারী কাঠামো অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে তাদেরও স্বৈরাচারী হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুরের আরডিআরএস বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনি ইশতেহার’ বিষয়ক বিভাগীয় কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘শেখ হাসিনা কিন্তু ট্যাংকে চড়ে ক্ষমতায় আসেননি, শেখ হাসিনা উড়ে-পড়েও ক্ষমতায় আসেননি। শেখ হাসিনা এসে সংবিধান বাতিলও করে দেননি, যদিও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন করেছেন, পুনর্লিখন করেছেন। কিন্তু সেই স্বৈরাচারী কাঠামো ব্যবহার করে তিনি (শেখ হাসিনা) কিন্তু দানবে পরিণত হয়েছেন। এ স্বৈরাচারী কাঠামো যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে পরবর্তী সময়ে যারা ক্ষমতায় আসবে তাদেরও স্বৈরাচারী হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা যদি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রদর্শন না করি, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। এ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ উত্তর হলেও এবং এগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হলেও আমরা যে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হব, তা কিন্তু নয়। কারণ, এটা বহুলাংশে নির্ভর করে আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর। আমরা যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না আনি, তাহলে আমাদের সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ হবে না।”

সুজন সম্পাদক আরও বলেন, ‘আমি আশা করি যে, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। একটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যাতে হয়, এ ব্যাপারে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এবং তাদের প্রার্থীরা সদাচরণ করবে। সরকার তার ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করবে, নিরপেক্ষভাবে পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করবে এবং নির্বাচন কমিশন তারা নিরপেক্ষভাবে আইন বিধিবিধান প্রণয়ন করবে বলে আমরা আশা করি।’

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে সরকারের প্রচারণা প্রসঙ্গে বদিউল আলম বলেন, ‘এখন যেটা মনে রাখতে হবে, এ সরকার কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। এ সরকার হলো গণঅভ্যুত্থানের সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আইন, আইনি কাঠামো ছিল এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব ছিল তিন মাসের জন্য। নির্বাচন করে তারা কোনোরকম নীতিগত বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতো না এবং তারা তিন মাস পরেই তারা বিদায় নিত। কিন্তু এ সরকার এসেছে কতগুলো অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে—নির্বাচন, সংস্কার এবং বিচার। এ সংস্কার করার জন্য তারা ১১টা সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। তাই সরকার এ সংস্কার করার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং তাই তারা এ সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারে।’

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অতীতের রাষ্ট্রপরিচালকেরা দুর্নীতি করে আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছেন

1

বৃহত্তর খুলনার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল কল

2

বিজয়নগরে মদ্যপানে দুইজনের মৃত্যু, অসুস্থ আরও দুইজন

3

সাঁতার প্রতিযোগিতার সেরা নাফিসা সিনেমায় নায়িকাও, নায়কের তালি

4

ড. কামাল হোসেন গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি

5

মেসি ফিরলেন, গোল করলেন, দলকেও জেতালেন

6

ট্রাম্পই হচ্ছেন ওয়াশিংটন ডিসির ‘সবচেয়ে কুখ্যাত অপরাধী’: মাস্

7

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গোপন রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি জানাল ছাত্রদ

8

রাশিয়া খুব বড় শক্তি, যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের চুক্তি করা উচিত:

9

রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন

10

রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ না হলে কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, প্র

11

শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন

12

ইসরায়েলি বাহিনী আমাদের আটকে দিয়েছে, আমাকে অপহরণ করেছে: শহিদু

13

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

14

‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু

15

সংসদ ভবনের ফটক টপকে মঞ্চের সামনে অবস্থান জুলাই যোদ্ধাদের

16

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আইনগত কোন বাধা নেই

17

রান নেই–উইকেট নেই, তবু ম্যাচসেরা

18

খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ারে তিন বাহিনীর প্রধানরা

19

শেখ হাসিনাসহ গুম-খুনের নির্দেশদাতাদের বিচার দাবি ডাকসুর

20