বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে প্রসিকিউশন। গত বছর ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনে রক্তক্ষয়ী দমন অভিযানের অভিযোগে এই দাবি জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপি (Associated Press) ও বিবিসি জানায়, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার চলছে।
তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং অনুপস্থিত অবস্থায় বিচারকার্য চলছে।
ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপে হাসিনাকে নিরাপত্তা বাহিনীকে “প্রয়োজনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার” করতে নির্দেশ দিতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হাসিনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “হাসিনা ১,৪০০ মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য। যেহেতু তা মানবিকভাবে সম্ভব নয়, তাই অন্তত একটি মৃত্যুদণ্ডের দাবি করছি।” তার ভাষায়, “ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্যই তিনি এত নৃশংসতা চালিয়েছেন।”
গত বছরের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে পরিণত হয়। কয়েক সপ্তাহের সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন—যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা বলে উল্লেখ করেছে বিবিসি।
৫ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের গুলিতে অন্তত ৫২ জন নিহত হন, যখন বিক্ষোভকারীরা হাসিনার সরকারি বাসভবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। ওইদিনই হাসিনা হেলিকপ্টারে করে দেশ ত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
হাসিনার রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী জানান, বিক্ষোভকারীদের সহিংসতার কারণে পুলিশ বাধ্য হয়ে পাল্টা গুলি চালায়
এই মামলায় হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন-এর বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। কামালের বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে। মামুন দোষ স্বীকার করলেও এখনো রায় ঘোষণা হয়নি।
এছাড়া হাসিনাকে আদালত অবমাননার অভিযোগে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং আলাদাভাবে দুর্নীতির মামলাও চলছে।
সূত্র: Associated Press, BBC News.
মন্তব্য করুন